কলকাতা, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ — পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্প্রতি ৬৫ দিনের সরকারি ছুটির তালিকা ঘোষণা করলেও তা কার্যত সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বিরোধিতাপূর্ণ ও অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ কর্মীদের দাবি ছিল, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি কাজের চাপ মাথায় রেখে এই ছুটির তালিকা তৈরি হওয়া উচিত, কিন্তু সরকারের ঘোষণাটি বেসরকারিভাবে অনুপযুক্ত ও বাস্তবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সুদীর্ঘ অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও সার্বিক কর্মজীবনের চাপ বাড়তে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মীরা দাবি করেছিল ছুটির তালিকা কর্মীদের সুবিধা ও জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধি করবে এমনভাবে করা হওয়া উচিত, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্ত তা থেকে শূন্য দূরে।
কোন ৬৫ দিন সরকারি ছুটির তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে?
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে যে রাজ্যে সমন্বিতভাবে মোট ৬৫ দিন সরকারি ছুটি থাকবে, যার মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, জাতীয় ছুটি এবং অন্যান্য সরকারি ছুটি অন্তর্ভুক্ত। সরকারি কর্মচারীদের দাবী ছিল, “…কর্মীদের দৈনন্দিন জীবনে সুবিধা ও ব্যালান্সের দিক মাথায় রেখে ছুটির দিন নির্ধারণ করা উচিত”, কিন্তু বাস্তবে সরকারি তালিকাটি এমনভাবে তৈরি হয়নি যেটি কর্মীদের বাস্তব চাহিদা পূরণ করবে।
এটি কর্মীদের মধ্যে বড় অভিযোগের কারণ হয়েছে কারণ অনেকেই মনে করেন, “…সরকার ৬৫ দিনের মধ্যে এমন কিছু ছুটি রেখেছে যেটি কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে এবং কর্মীদের বার বার কাজের চাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বাধা দেবে।”
কেন এই ছুটির তালিকা বাস্তবে কার্যকর নয়?
শাসক দল বারংবার দাবি করেছে যে এই ছুটির তালিকা কর্মীদের মঙ্গল ও পরিবারের সময়ের সুবিধা বিবেচনা করে তৈরি হয়েছে, কিন্তু কর্মীরা তার বিপরীত দাবী তুলেছেন। তাদের বক্তব্য:
- ছুটির দিন গুলো অসম যৌক্তিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে.
- কর্মীদের কর্মশক্তি ও পরিষেবার ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত তৈরি হবে.
- জরুরি পরিষেবা ও সরকারি কাজের সময়সূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে.
এক সরকারি কর্মী বলেন, “৬৫ দিনের ছুটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে এই ছুটির যোগসূত্র, তার বিন্যাস ও সময় তালিকা এমনভাবে করা হয়েছে যা আমাদের দিনমজুর জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে না।”
কর্মীদের দাবি

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য স্পষ্ট — তাঁরা চাইছেন:
🔹 ছুটির তালিকায় বাস্তব জীবনের প্রয়োজন ও কর্মব্যস্ততা বিবেচনা হোক
🔹 শরীরিক ও মানসিক বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা হোক
🔹 জরুরি পরিষেবা ও সরকারি কাজের ব্যাঘাত কমানোর জন্য ছুটির ব্যবস্থা সঠিকভাবে হোক
কর্মচারী ইউনিয়নের প্রধান বলেন, “আমরা চাইছি—ছুটি যেন কর্মীদের জীবনে সুবিধা আনে, আর সরকারি পরিষেবা মন্থর বা ব্যাহত না করে।”
এখানে একটি সাধারণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—কেন সরকার কর্মীদের নিত্যদিনের চাপ, পরিবহনের খরচ, পরিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে একটি যুক্তিসংগত ছুটির তালিকা তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে?
রাজনৈতিক বিরোধ ও সমালোচনা
এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে সমালোচনার স্বরে উঠেছে বিরোধীরা। তারা বলেন “…পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্মীদের উন্নয়ন ও সুবিধার পরিবর্তে কেবল ছুটি দিবসের সংখ্যা গুনছে” এবং যোগ করেছেন, “…সরকার কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণে বাস্তব ও যুক্তিসংগত নীতিমালা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে”।
এক বিরোধী নেতা বলেন, “যদিও ছুটির সংখ্যা অনেক হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কর্মীরা তার সুবিধাগুলো থেকে আর লাভবান হবেন না, কারণ দিনগুলোর বিন্যাস কর্মের চাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ায় না।”
বাস্তব জীবনের প্রভাব
কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ ছাত্রী-ছাত্রী সকলেই স্বীকার করেছেন যে সরকারি ছুটির এভাবে বৃদ্ধি কার্যত:
✔️ অফিসের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে
✔️ জরুরি পরিষেবা স্থিতিশীল হবে না
✔️ জনসেবায় মন্থরতা তৈরি হবে
✔️ কর্মীদের কর্মজীবন আরো বিশৃঙ্খল হবে
এক সরকারী অফিস কর্মী বলেন, “ছুটি যদি কর্মীদের জীবনে সাহায্য না করে, তাহলে এর কোন বাস্তব মূল্য আছে?”
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৬৫ দিনের সরকারি ছুটির তালিকা নিয়ে কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও অসন্তোষ আরও বাড়ছে। কর্মীরা মনে করছেন যে সরকারি ঘোষণাটি বাস্তবে কর্মীদের সুবিধার পরিবর্তে কর্মদক্ষতা ও জনসেবার ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। এর ফলে সমাজের এক বড় অংশ মনে করছে, “ছুটির সংখ্যা বাড়ানো মানেই সুখ নয় — এটি কার্যকর ও যুক্তিসংগতভাবে পরিকল্পিত হওয়া উচিত।”
এ ইস্যুটি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংবাদিকতার অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিতর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







