ঢাকা : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর অ্যাক্টিং চেয়রম্যান তরিক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঢাকায় ফিরে এসে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও বড় সাফল্য পেয়েছেন। দলের সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়, এবং প্রথম বক্তৃতায় তিনি Martin Luther King Jr.-এর বিখ্যাত বক্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের একটি নতুন স্লোগান ঘোষণা করেন —
“I have a plan”, সর্বস্তরের মানুষের জন্য নতুন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আসার সংকেত হিসেবে।
তরিক রহমান ২০০৮ থেকে নিজ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন, তখন তিনি বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও আদালত-সংক্রান্ত চাপের মুখে বিদেশে চলে যান। এখন দীর্ঘ বছর পর তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ও তাঁদের পোষা বিড়াল Zeebu-সহ দেশে পা রাখেন এবং সমর্থকদের দ্বারা উৎসব পরিবেশে স্বাগত জানানো হয়। মহানগর ঢাকার সড়কগুলোতে সমর্থক-সমর্থক উত্তেজনায় ভরা, যেখানে তাঁকে অনেকেই ‘ঈদ-মুহূর্তের মতো’ অভ্যর্থনা জানান।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর তার দেওয়া বক্তৃতায় তরিক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে সেটি ২০২৪-এ সরকারের পরিবর্তনের পর সৃষ্টি হয়েছে এবং তা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতোই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন—
“Martin Luther King Jr বলেন ‘I have a dream’… আজ আমি বলছি, BNP-র পক্ষ থেকে আমার একটি পরিকল্পনা (I have a plan) আছে”—সকলকে মিলিয়ে শৃঙ্খলা, শান্তি ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য।
এই বক্তৃতায় তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষের জন্য সহমত, সমতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এবং দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সকল নাগরিককে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।
তরিক রহমানের প্রত্যাবর্তনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচন সামনে রয়েছে। BNP-এর সক্রিয় নেতা ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তার উপস্থিতি দলকে এক নতুন শক্তি দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তরিক রহমানের দেওয়া বক্তৃতায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়—
✔ অর্থনৈতিক উন্নয়ন
✔ নাগরিক অধিকার
✔ নিরাপত্তা ও মানুষের জীবনে উন্নতি
—এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে পরিচ্ছন্ন রোডম্যাপ তৈরি করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তরিক রহমানের বিদেশে থাকা সময় তাঁর মা খালেদা জিয়া, দুইবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যের কারণে হাসপাতালে রয়েছেন এবং তিনি নিজে প্রথম কাজ হিসেবে মাকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন।
এটি বাংলাদেশী রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ঘরানার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—যেখানে রাজনীতির সাথে পরিবার ও পারিবারিক নেতৃত্বের বিষয়টি সবসময় বিরাজমান থাকে।
তরিক রহমানের ১৭ বছরের নির্বাসনের পর ফেরার ঘটনা শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নয়—বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, ভোট, নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক-এর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হয়ে উঠেছে।
তিনি “I have a plan” বলে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা জানান দিলেন—শান্তি, সমন্বয় ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
এ ঘটনায় ভবিষ্যৎ নির্বাচনে BNP-এর অবস্থান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নীতি সবই গুরুত্বপূর্ন দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।







