ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের জেফরি এপস্টাইন-সম্পর্কিত অন্যতম বৃহত্তম নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০,০০০ পাতার অভ্যন্তরীণ কাগজপত্র, ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নথিগুলির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও একাধিকবার উল্লেখ থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (Department of Justice) এই নথির কিছু দাবিকে “অসত্য ও অনুভূতিপ্রধান” বলে খণ্ডন করেছে।
নতুন প্রকাশিত নথিতে কী রয়েছে?
নথিগুলির মধ্যে রয়েছে—
🔹 বিভিন্ন ইমেইল,
🔹 সংবাদ কপি,
🔹 সরকারি মেমো ও আর্থিক রিপোর্ট,
🔹 কিছু ভিডিও ক্লিপ ও ছবি — যার বেশিরভাগ তথ্য redacted বা সংরক্ষিত করা হয়েছে।
এই তথ্যাবলির একটি ইমেইলে বলা হয়েছে যে ট্রাম্প ১৯৯০-এর দশকে এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমান (private jet)-এ অন্তত আট বার ভ্রমণ করেছিলেন। ইমেইলটি জানায় কিছু ক্ষেত্রে ট্রাম্প এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে, ও একাধিকবার জিলে অভিযুক্ত সহযোগী গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সেসব ফ্লাইট রেকর্ড থেকেও উল্লেখ আছে। The Times of India
তবে এটুকুই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ নির্দেশ করে না — কেবল উল্লেখ মাত্র।
DOJ-এর প্রতিক্রিয়া: ‘অসত্য ও সংবেদনশীল’ দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট (DOJ) স্পষ্ট করে দিয়েছে যে,
📌 নথির মধ্যে কিছু দাবিগুলো “অসত্য এবং মাত্রাতিরিক্ত সংবেদনশীল” এবং
📌 এগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই।যদি এগুলোর মধ্যে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকত, তাহলে ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে এগুলো ব্যবহৃত হতো বলেই DOJ জানায়।
এটি DOJ-র অফিসিয়াল পোস্টে বলা হয় যে ট্রাম্পের নামে থাকা এই দাবিগুলো প্রমাণিত নয় এবং দাবি জোড়া সম্ভবত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। The Times of India
এর ফলে DOJ-এর বক্তব্য স্পষ্ট — নথিগুলির উপস্থিতি মানে ট্রাম্প অপরাধী, এমনটা বোঝানো উচিত নয়।
নথিগুলির আরও একটি দিক হলো — সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর মধ্যে একটিতে অন্তর্ভুক্ত একটি চিঠি ও ভিডিও যা DOJ পরে ভুল/জাল বলে ঘোষণা করেছে। এই চিঠিটি জেফরি এপস্টাইন থেকে অপর অপরাধী ল্যারি নাসারকে লেখা বলে দাবি করা হয়েছিল। এতে ট্রাম্পের নাম কোনোভাবেই যুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু DOJ-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে—
⚠️ লেখা হাতের লিখতে মিল নেই,
⚠️ তারিখ ও পোস্টমার্ক সন্দেহজনক,
⚠️ এবং এটি এপস্টাইনের স্বাক্ষরিত নাও হতে পারে।
DOJ এটি “fake” বা জাল বলে ঘোষণা করেছে। Reuters
এছাড়া এক জাল ভিডিয়ো-ও ফাঁস হয়েছে যা দাবি করা হয়েছিল যদিও DOJ পরীক্ষা করে এটি ডিজিটালি তৈরি ও অপ্রামাণিক বলে জানিয়েছে।
ট্রাম্প ও এপস্টাইনের সম্পর্ক
ট্রাম্প ও এপস্টাইনের পরিচয় নতুন নয় — ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুতে তারা সামাজিকভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার বলেছেন যে তারা সম্পর্ক ব্যবধানিত হয়েছিল এবং তিনি কখনো দায়িত্ব-অপরাধে যুক্ত ছিলেন না।
আজ প্রকাশিত নথিগুলিতে ট্রাম্পের উল্লেখ এপস্টাইনের জেট-ফ্লাইট রেকর্ড বা সংবাদ কাটিং থেকে এসেছে, যা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যার বিষয়বস্তুকে জটিল করেছে, কিন্তু DOJ-র বক্তব্য এটি কোনো অপরাধী প্রমাণ নয়। The Times of India
নথি প্রকাশের পেছনে একটি আইনি প্রেক্ষাপটও আছে — ২০২৫ সালে Epstein Files Transparency Act নামে একটি নতুন মার্কিন আইন পাশ হয়, যার মাধ্যমে DOJ-কে সমস্ত অব্জারভ কোডকৃত নথি প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়েছে (কিছু redactions সহ)।
কিন্তু তথ্যের খণ্ডন ও redaction-এর কারণে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট নয় এবং নথি প্রকাশ করলেও অনেক অংশই এখনও গোপন বা অস্পষ্ট রাখা হয়েছে—যা এটা নিয়ে আরও বিতর্ক ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
🔹 যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রায় ৩০,০০০ পাতার Epstein-সম্পর্কিত নথি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের উল্লেখ আছে।
🔹 ডকুমেন্টগুলোর মধ্যে কিছু দাবি DOJ ‘অসত্য ও সংবেদনশীল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
🔹 নথির অন্তর্ভুক্ত উল্লেখসমূহ কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না এবং প্রমাণসূত্র নয় — বিচার বিভাগ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে।
🔹 কিছু অংশ বর্তমানেও heavy redactions-এ রয়েছে এবং তার কারণে পুরো সত্য পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি।
এই নথি সম্প্রদায়ের বিতর্কিত, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।







