পিয়ংইয়ং / সিওল: উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি তার প্রথম পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন নির্মাণের অগ্রগতির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিনটি প্রায় ৮৭০০ টন ওজনের এবং এটি অফেনসিভ ওয়ারফেয়ার-এর জন্য শক্তিশালী সক্ষমতা বহন করবে বলে দাবি করা হচ্ছে। Threads
উল্লেখ্য, এই সাবমেরিনটি এখনও সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রে নামানো হয়নি; বরং এটি নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং নির্মাণ সংক্রান্ত ফটো ও ভিডিও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দেশের শীর্ষ নেতা কিম জং উন নতুন সাবমেরিন নির্মাণ ক্ষেত্রের ব্যাপক অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন। রাষ্ট্র-মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে কিম জং উন নিজে গাড়ির মতো দীর্ঘ সাবমেরিন ডেকonstrাকশন জায়গায় উপস্থিত ছিলেন এবং তার নিরাপত্তা ও সামরিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
এই সাবমেরিনকে “স্ট্র্যাটেজিক গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন” বা পরমাণু-সক্ষম অ্যাটাক সাবমেরিন বলা হচ্ছে, যা পরমাণু অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম হতে পারে — এমন দাবিও প্রকাশিত হয়েছে। AP News
টেকনিক্যাল দিক ও সক্ষমতা
নির্মাণাধীন সাবমেরিনের ৮৭০০ টন ডিসপ্লেসমেন্ট এটিকে বিশ্বের উন্নতমানের পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিনের সাথে তুলনীয় করে তোলে। পারমাণবিক সাবমেরিন সাধারণ ডাইজেল-চালিত সাবমেরিনের তুলনায়:
✔ দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকতে পারে
✔ চুপচাপ অতিক্রম করতে সক্ষম
✔ দ্রুত গতিতে চলাচল করতে পারে
এগুলোই পারমাণবিক চালিত সাবমেরিনকে সামরিক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। Threads
এক বিশ্লেষক বলেছেন, সাবমেরিনের হাল বা ধাঁচ দেখে ধারণা করা হচ্ছে ইঞ্জিন ও সম্ভবত পারমাণবিক রিয়েক্টরও স্থাপন করা হয়েছে — যা সাবমেরিনটিকে সমুদ্রে দীর্ঘদিন গোপনে কাজ করার সক্ষমতা দেবে।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন নির্মাণের লক্ষ্য দীর্ঘদিন ধরেই কিম জং উনের একটি বড় সামরিক উদ্দেশ্য। কিম ২০২১ সালে একটি পার্টি কংগ্রেসে “পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন উন্নয়ন” একটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং তারপর থেকেই এই প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে উচ্চ-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপসোনিক অস্ত্র ও বিভিন্ন আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে কাজ করছে এবং সাবমেরিন নির্মাণই নৌসেনা আধুনিকতার একটি বড় অংশ।
এই উন্নয়নের ফলে কোরিয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা সংকট আরও জটিল হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন প্রযুক্তি অর্জনের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা পিয়ংইয়ংকে বিপজ্জনক বলে বিবেচিত করছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-মাধ্যম সেই সহযোগিতাকে তার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। Reuters
পিয়ংইয়ং একই সঙ্গে সম্প্রতি দীর্ঘ-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে প্রবল আঘাত হানে — যা উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রযুক্তির উন্নতি নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরণের পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ফলে আঞ্চলিক তণ্ডুলতা বাড়বে, বিশেষত দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
নিউক্লিয়ার-চালিত সাবমেরিন তৈরির খবরটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি চিন্তার জায়গা সৃষ্টি করেছে। পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মতোই এটি উত্তর কোরিয়াকেও একটি শক্তিশালী সামরিক ভূমিকা দিতে পারে, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে এ অঞ্চলে।
বিশেষত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের শক্তি, জাপানের নিরাপত্তা নীতি, এবং চীন ও রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান — এই সকলের উপর এই উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব রাখতে পারে।
সমালোচকরা বলছেন, পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন ও অন্যান্য আধুনিক অস্ত্রের বর্ধিত উত্পাদন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক কর্মসূচি — পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন নির্মাণ ও দীর্ঘ-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা — এশিয়ার নিরাপত্তা দৃশ্যপটকে বদলে দেবে এমন ইঙ্গিত দেয়। পিয়ংইয়ং এ ধরণের প্রযুক্তি অর্জনে অগ্রগতি দেখিয়েছে, এবং নেতা কিম জং উনের ব্যক্তিগত তদারকিতে এটি দেশটির সামরিক অগ্রাধিকারে পরিণত হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে কোরিয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা, শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত চুক্তি-সম্মেলনগুলোর উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে — যা বিশ্বমঞ্চে আগ্রহ ও উদ্বেগ উভয়ই তৈরি করছে।







