কলকাতা, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আবারও সরকারি ব্যর্থতা ও ন্যায্যতার অভাব ফুটে উঠল যখন কলকাতা হাইকোর্টের Division Bench ৩১৩ জন পূর্ববর্তী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সরকারি আদেশকে স্থগিত (stay) করে দিল। এই ঘটনাটি রাজ্যের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সরকারি সিদ্ধান্তের অনৈতিক দিক তুলে ধরে রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
রাজ্যের সরকার গতবার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩১৩ জন শিক্ষককে “অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত” হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং তাদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ জারি করেছিল। কিন্তু আজ হাইকোর্ট বলেছে, “এভাবে চাকরি বাতিল করার ক্ষেত্রে যথাযথ ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার অনুসরণ করা হয়নি।”
কেন এই সিদ্ধান্ত অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসন বারংবার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা সরকারি কর্মী ও শিক্ষক সমাজের অধিকারের পরিপন্থী বোধগম্য নয়। ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি একটি বড় সংখ্যক মানুষের জীবিকা ও পরিবারকে প্রভাবিত করে — অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সম্যক তদন্ত, প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা বা খোলাখুলি ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বহু শিক্ষক ও নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। তারা দাবী করেছিল,
- সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা আরও বাড়ানো হোক.
- একতরফা ভাবে চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা হোক.
- ন্যায্য শুনানি ও অডিট প্রক্রিয়া চালানো হোক
কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে, যা অনেকেই মানছেন একধরনের প্রশাসনিক অদক্ষতা ও পক্ষপাতিত্বের পরিচয়।
হাইকোর্টের Division Bench-এর যুক্তি

কলকাতা হাইকোর্টের Division Bench-এর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে —
- “চাকরি বাতিলের প্রক্রিয়াটি যথাযথ ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করেনি।”
- “সরকার ন্যায্য শুনানি ও ন্যায়বিচারের সুযোগ দেয়নি।”
- “এই অবস্থায় ৩১৩ জনের চাকরি বাতিল করা অনুচিত।”
এটি রাজ্যের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী পুনর্বিবেচনার নির্দেশ হিসেবেও ধরা হচ্ছে, কারণ আদালত বলেছেন, যে কোনও চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যথাযথ প্রমাণ, পর্যাপ্ত নোটিশ ও শুনানি দিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা
রাজ্যের সরকারের তরফ থেকে এমন একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন তুলেছে —
“কেন সরকারের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা কম?”
বর্তমানে শিক্ষক সমাজ মনে করছে, রাজ্য প্রশাসনের একাধিক ভুল নীতি ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে তাদের কর্মজীবন ও পরিবারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায্য প্রক্রিয়া না দিয়ে চাকরি বাতিল করা—এটা শুধু বাস্তব জীবনের ক্ষতি নয়, এটি অত্যন্ত অবিচারমূলক আচরণ।
এক শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধির বক্তব্য ছিল,
“আমরা আমাদের যোগ্যতা ও নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন পরীক্ষা দিতে এসেছি। অথচ হঠাৎ করে আমাদের চাকরি বাতিল করা সরকারের একতরফা ও অযোগ্য সিদ্ধান্ত।”
এমন মন্তব্য রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মতামতের ঝড় তুলেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা
এই মামলায় রাজ্যের রাজনৈতিক বিরোধীরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিরোধী নেতারা দাবী করেছেন যে, “সরকার শিক্ষকদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে হেয় করার কোন অধিকার রাখে না”, এবং এটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরকারের উদাসীন মনোভাবের প্রতিফলন।
এক বিরোধী নেতা বলেন,
“যদি কোনও সরকার নির্ভরযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য পরিকল্পনা করতে পারছে না, তাহলে সেটা শিক্ষকদের কি বার্তা দিচ্ছে? এটা কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়?”
এভাবে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা আরও তীব্র হচ্ছে এবং সমাজের বহু পক্ষ থেকে সরকারকে দায়িত্বশীল ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত নিতে টানা চাপ দেওয়া হচ্ছে।
হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশ ‘শুধু ৩১৩ জনের চাকরি’ নয় — এটি একটি ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই সিদ্ধান্ত:
✔️ শিক্ষা ব্যবস্থায় ন্যায্যতা পুনরুদ্ধার করবে
✔️ সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়াবে
✔️ ভবিষ্যতে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমাবে
✔️ রাজ্য সরকারের ভুল নীতির প্রতি জনগণের আস্থা কমাবে
এই ইস্যু শুধুই একটি আইনি যুদ্ধ নয়, এটি সমাজ ও রাজনীতির এক বড় পাঠ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারংবার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবিকার ওপর অনিচ্ছাকৃত নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে — যা হাইকোর্ট ঠিকভাবে সংশোধন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।







