কলকাতা, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর সি ভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose) একাধিক নতুন পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি প্রাক্তন শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই বিশেষ পুরস্কার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমাবর্তন মঞ্চ থেকে আনন্দ বোস জানান যে, মোট সাতটি নতুন পুরস্কার চালু করা হবে এবং প্রতিটি পুরস্কারের মূল্য হবে ২৫,০০০ টাকা। এই পুরস্কারগুলো আগামী বছরের সমাবর্তন থেকেই প্রদানের জন্য কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুরস্কারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
রাজ্যপাল নিজের বক্তৃতায় বলেন, এই পুরস্কার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অধ্যাপক ও গবেষকদের উৎকর্ষতা ও গবেষণার জন্য উৎসাহিত করতে দেওয়া হচ্ছে। “আমি চাই যোগ্য ও মেধাবী ছাত্র ও গবেষকরা আরও উন্নতি করুক”, তিনি বলেন। তিনি এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়েও মন্তব্য করেন।
এসময় তিনি যোগ করেন যে, বাংলায় হিংসা ও দুর্নীতির মতো সমস্যা বিদ্যমান, এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও এর প্রভাব মুক্ত থাকা সম্ভব নয়; কিন্তু শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত করাই মূল লক্ষ্য।
ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
যদিও আনন্দ বোস পুরস্কার ঘোষণা করেন, সমাবর্তন মঞ্চের বাইরে কিছু ছাত্রদের বিক্ষোভও দেখা গেছে। ছাত্রসংঘ নির্বাচনের দাবিতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা ইস্যু করে পড়ুয়ারা প্রতিবাদ জানায়, যা সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংঘটিত হয়। বলেছেন —
“প্রতিবাদ করা ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার, এবং রাজভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সংলাপ থাকা জরুরি।”
সমাবর্তন ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য
সি ভি আনন্দ বোস এই বছরের সমাবর্তনে কী-নোট বক্তব্য দেবেন এবং গবেষণা-সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের জন্য ডিগ্রি, মেধা পুরস্কার এবং অন্যান্য স্বীকৃতি প্রদান করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া উপাধি প্রদানের অংশ হিসেবে সম্মানসূচক পুরস্কার ও গবেষণা-সম্পর্কিত সম্মাননা হিসেবেও পুরস্কার প্রদান করা হবে।
এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিরা, এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অতিথিরাও অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
এই নতুন পুরস্কার ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যক্তিত্ব ও গবেষণার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে। তবে ছাত্রদের মধ্যে চলা বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ ইস্যু শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে কিছু বিতর্কও তৈরি করেছে। আগামী বছরে এই পুরস্কারগুলো কার্যকর হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রপালের উদ্যোগে আলোচনার সূচনা হতে পারে।







