মেলবোর্ন / লন্ডন: এবারের অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড অ্যাশেজ সিরিজ (2025-26) খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সিরিজ চলাকালীন ইংল্যান্ড দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নানা বিষয়ে অ্যালকোহল-সংক্রান্ত আচরণে নজরকাড়া অবস্থায় দেখা গেছে, যার ফলে টিম ম্যানেজমেন্ট তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই সিদ্ধান্তটি খেলার ভিতরে এবং বাইরেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
কী ঘটেছে আসলে?
অ্যাশেজ সিরিজের ফাঁকে ইংল্যান্ড দলের বেশ কিছু ক্রিকেটারকে রাতে সামাজিকভাবে অ্যালকোহল খাওয়ার ঘটনায় দেখা গেছে। ম্যাচের পরে বা নির্দিষ্ট বিশ্রামের সময় এমন আচরণের ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দলের পরিচালনা ও ক্রিকেট পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এটি এতটাই আলোচিত হয়েছে যে, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো মর্যাদাপূর্ণ ঘটনার বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণ ও প্রশিক্ষণ-শৃঙ্খলা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তদন্তের সিদ্ধান্ত — কারা দেখবেন?
ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে যে—
📌 টিম কর্মকর্তা একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করবেন
📌 কোন খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়েই শৃঙ্খলার ভঙ্গ ঘটেছে কিনা তা দেখা হবে
📌 নির্দেশনা বা আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে
এই তদন্ত বড় ধরনের গুরুতর প্রতিক্রিয়া ছাড়াই উভয়ের পেশাদার আচরণ এবং খেলার পরিবেশ ঠিক রাখার লক্ষ্যেই করা হবে।
এমন আচরণ শুধু খেলার ফলাফলকে প্রভাবিত করে না — এটি—
✔ খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মনোবল
✔ দলীয় শৃঙ্খলা ও একমত
✔ আন্তর্জাতিক স্তরের প্রফেশনালিজম
✔ ক্রিকেট-ফ্যানদের দর্শন— সকলকেই স্পর্শ করে।
অ্যাশেজ সিরিজের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় মানসিক প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল আচরণ খেলার পাশাপাশি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) বলেছেন,
“আমরা খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতার চারপাশের সকল আচরণকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখি। সিরিজের মতো বড় ঘটনা চলাকালীন টিম আচরণবিধি ও পেশাদার মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
এর ফলে বোর্ড একটি স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া নিতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে—
✔ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মানসিক চাপ ও সিরিজের উত্তাপের মধ্যে মাঝে মাঝে ভুল আচরণ করেছিল
✔ তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পেশাদার শৃঙ্খলা মানা উচিত
✔ তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতের কোড-অফ-কন্ডাক্ট ও খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃঢ়তা আনতে পারে
এক বিশ্লেষক বলেন—
“খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ও প্রকাশিত ভিডিওগুলো বোর্ডের নজর এড়াতে পারে না; তদন্ত হলে তাতে দলের ও খেলোয়াড়দের উভয়ের জন্যই শিক্ষা ও সমন্বয় বাড়বে।”
অ্যাশেজ সিরিজ শুধুই খেলা-নির্ভর ঘটনা নয় — এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও আচরণ কাঠামোকে সামনে এনে দিয়েছে।
🏏 যেখানে মাঠে টিমের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে মাঠের বাইরে সময় ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়— তৎাত্মক তদন্ত কেমন ফলাফল দেবে এবং ইংল্যান্ড দল তার পরবর্তী পরিকল্পনায় কী পরিবর্তন আনবে।







