বড়দিনের সকালে ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এক ঐতিহাসিক সাফল্য এল। ইসরোর (ISRO) সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট LVM3-M6 বুধবার সফলভাবে একটি মার্কিন যোগাযোগ উপগ্রহকে লো আর্থ অরবিটে (LEO) স্থাপন করেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারতীয় ভূমি থেকে উৎক্ষেপিত LVM3 রকেটে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভারী পে-লোড।
ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, BlueBird Block-2 নামের এই স্যাটেলাইটটিকে নির্ধারিত কক্ষপথে একেবারে নিখুঁতভাবে স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
কী এই BlueBird Block-2 স্যাটেলাইট?
BlueBird Block-2 আসলে একটি পরবর্তী প্রজন্মের যোগাযোগ উপগ্রহ, যা সরাসরি স্মার্টফোনে হাই-স্পিড সেলুলার ব্রডব্যান্ড পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি।
এই স্যাটেলাইটটি একটি বৈশ্বিক LEO কনস্টেলেশন প্রকল্পের অংশ, যার মাধ্যমে—
4G ও 5G কল
ভিডিও কল
মেসেজিং
স্ট্রিমিং
ডেটা পরিষেবা
সবকিছুই পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে, যে কোনও সময়ে স্মার্টফোনে পাওয়া যাবে।
উৎক্ষেপণের বিবরণ
উৎক্ষেপণের সময়: সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট
স্থান: শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র
রকেটের উচ্চতা: ৪৩.৫ মিটার
মিশনের সময়কাল: প্রায় ১৫ মিনিট
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্যাটেলাইটটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে সফলভাবে কক্ষপথে প্রবেশ করে।
এই BlueBird Block-2 স্যাটেলাইটটির ওজন ৬,১০০ কেজি, যা—
LVM3 রকেটের ইতিহাসে
ভারতীয় মাটি থেকে
লো আর্থ অরবিটে পাঠানো
সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ হিসেবে রেকর্ড গড়ল।
এর আগে সর্বোচ্চ ওজনের পে-লোড ছিল ৪,৪০০ কেজি, যা LVM3-M5 মিশনে নভেম্বরে GTO কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল।
এই উৎক্ষেপণটি হয়েছে—
ISRO-এর বাণিজ্যিক শাখা NewSpace India Limited (NSIL)
এবং মার্কিন সংস্থা AST SpaceMobile (AST & Science LLC)
এর মধ্যে হওয়া একটি বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায়।
AST SpaceMobile বিশ্বের প্রথম স্পেস-ভিত্তিক সেলুলার ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যা সরাসরি স্মার্টফোনে কাজ করবে—কোনও আলাদা ডিভাইস ছাড়াই।
LVM3-M6, যা GSLV Mk-III নামেও পরিচিত—
তিন ধাপবিশিষ্ট
ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনযুক্ত
ভারী পে-লোড বহনে সক্ষম
এই রকেটে ব্যবহৃত—
দুটি শক্তিশালী S200 সলিড বুস্টার,
যা উৎক্ষেপণের সময় প্রয়োজনীয় বিশাল থ্রাস্ট জোগায়।
এই বুস্টারগুলি তৈরি করেছে তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার।
ইসরো জানিয়েছে, LVM3 রকেট এখনও পর্যন্ত—
টানা ৮টি সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে
যার মধ্যে রয়েছে চন্দ্রযান-২ ও চন্দ্রযান-৩–এর মতো ঐতিহাসিক মিশন
এই সাফল্য ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।







