কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা আরও শক্তিশালী করল মোদি সরকার
নয়াদিল্লি: ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে এবং দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে (MGNREGA) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–র নেতৃত্বে এই পদক্ষেপকে গ্রামীণ ভারতের জন্য একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন নীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
এই নতুন আইনের মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা সরাসরি লাভবান হন এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।
বছরে কাজের নিশ্চয়তা বাড়িয়ে ১২৫ দিন
মোদি সরকার যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে, তা হলো—
প্রতি গ্রামীণ পরিবারে বছরে কাজের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা।
এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং অর্থনীতির নীচের স্তরে নগদ প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে। কাজ না পেলে আগের মতোই ১৫ দিনের মধ্যে বেকার ভাতা পাওয়ার আইনি অধিকার বজায় থাকছে।
কেন্দ্র-রাজ্য অংশীদারিত্বে উন্নয়নের নতুন মডেল

নতুন ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ব্যয়ের দায়িত্ব ৬০:৪০ অনুপাতে ভাগ করা হয়েছে। এর ফলে—
✔️ রাজ্যগুলির ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে
✔️ স্থানীয় স্তরে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন উন্নত হবে
✔️ প্রকল্পের মান ও নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে
কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে।
সংকটে গ্রামীণ ভারতের ভরসা !
করোনা অতিমারির সময় এই প্রকল্প যে কীভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে রক্ষা করেছে, তা দেশবাসী দেখেছে। শহর থেকে গ্রামে ফেরা লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এই কর্মসূচি হয়ে উঠেছিল অক্সিজেনের মতো প্রয়োজনীয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রকল্প—
গ্রামীণ ভোগব্যয় বাড়িয়েছে
দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে
শিক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে
মোদি সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে প্রকল্পটিকে আরও ভবিষ্যতমুখী করে তুলছে।
স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থার উপর জোর
নতুন কাঠামোয় ডিজিটাল নজরদারি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও কেন্দ্রীয় সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য—
“দরিদ্রের ক্ষমতায়ন, প্রকৃত কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং এক টাকাও যেন অপচয় না হয়।”
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন,
“এই আইন সম্পূর্ণভাবে গরিব মানুষের পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে এবং কর্মসংস্থানের পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি।”
আত্মনির্ভর ভারতের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের এই রূপান্তর আসলে আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তিকে আরও মজবুত করছে। কৃষির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে বহুমুখী করা এবং মানুষের হাতে কাজ ও সম্মানজনক আয় পৌঁছে দেওয়াই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য।
✔️ কাজের নিশ্চয়তা বাড়িয়ে ১২৫ দিন
✔️ কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ অংশীদারিত্বে উন্নয়ন
✔️ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর
✔️ গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য আরও শক্ত সুরক্ষা বলয়
মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, গ্রামীণ ভারতই উন্নত ভারতের মূল ভিত্তি—এবং সেই ভিত্তিকে আরও শক্ত করতেই এই সংস্কার।







