বাংলা24×7 ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর শুনানি পর্যায় শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) এই পর্যায়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে এবং জমা হওয়া নথি-দলিলগুলোকে দুই স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে।
এই শোনানির মূল উদ্দেশ্য— চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভুল বা অযোগ্য ব্যক্তি যেন অন্তর্ভুক্ত না হন এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করা।
কাদের নথি এবার স্ক্যানার-এর নিচে?
নির্বাচন কমিশনের ডিজিটালভাবে গ্রহণকৃত ইনিউমারেশন ফর্ম বা অন্যান্য দলিল-সংবলিত তথ্য-এর ওপর এবার কঠোর নজরদারি চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
✔ BLO-দের মাধ্যমে সংগ্রহকৃত নথি
✔ ডিজিটালি আপলোড হওয়া ইনিউমারেশন ফরম
✔ ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সাথে মিল না থাকা অনেকে
✔ “সন্দেহজনক” বলে চিহ্নিত ভোটারদের তথ্য
আরও পরিষ্কারভাবে বলা যায়—
যারা ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করেননি বা
যাদের তথ্য পুরনো ভোটার তালিকার সংগে লিঙ্কযুক্ত নয়,
তাদের নথি শ্রেণী অনুযায়ী শুনানির প্রথম দফায় যাচাই-পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।
শুনানি কবে শুরুর হচ্ছে?
কমিশন সামনে শনিবার থেকে এই শুনানি পর্ব পরিচালনা শুরু করবে। ইতোমধ্যেই BLO-দের কাছে অনেক ভোটারদের দলিল জমা পড়েছে এবং সেই নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব Electoral Registration Officers (ERO)-দের ওপর ওঠা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ERO-দের সেই নথি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে যাচাই/ফিল্টার করার সময়সীমা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শুনানির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
দুই স্তরে নথি যাচাই কেন?
ইসি এই শুনানির ক্ষেত্রে একটি নতুন নিয়ম বা প্রক্রিয়া চালু করেছে—
🔹 প্রথম স্তরে — ERO-রা যাচাই করবেন যে নথি মূল কাগজ ও পরিচয়পত্র সত্যিকারের কি না;
🔹 দ্বিতীয় স্তরে — জেলা মেজিষ্ট্রেট বা DEO (District Electoral Officer) যাচাই করবেন এই তথ্য কোন ভুল বা জালিয়াতি নেই কি না
তারা চাইছেন যাতে কোনো ভুল বা জাল নথি ভুলক্রমে বৈধ বলে চিহ্নিত না হয় এবং সঠিক ভোটারই চূড়ান্ত তালিকায় থাকে.
শুনানিতে কারা ডাকা হবে?
ইসি-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী নিচের ধরনের ভোটারদের নথির ভিত্তিতে শুনানিতে ডাক পাঠানো হবে—
🟡 যারা সঠিক ইনিউমারেশন ফরম দাখিল করেননি
🟡 যাদের নথির তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল
🟡 ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্যর্থ — এমন “unmapped” ভোটাররা
এই “unmapped voters” অর্থাৎ যারা পুরনো তালিকার সাথে নিজের বা কোনো আত্মীয়ের লিংক প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, তাদের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি ও দায়িত্ব
• ERO-রা প্রথম ধাপে নথি যাচাই করবেন।
• এরপর সেই নথি মাইক্রো অবজার্ভার কর্মকর্তা আবার পুনরায় যাচাই করবেন।
• ফলে প্রতিটি নথি দুইবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে।
এতে ভোটার তালিকা সংশোধনে যে কোনো ত্রুটি বা ভুল প্রবেশের ঝুঁকি কমবে, এর পাশাপাশি ভুলভাবে কেউ বাদ পড়ছে কি না তা নিয়েও সতর্ক নজর রাখা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা
ইসি-এর দেওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে—
✔ অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া ফরমের তথ্য যাচাই করা হবে
✔ জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য সরকারি নথির সাথে মিল খুঁজে দেখা হবে
✔ পর্যবেক্ষক ও বিশেষ পর্যবেক্ষকরা মাইক্রো অবজার্ভারদেরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন
✔ কোনো ভুল ধরা পড়লে রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়া হবে
এছাড়া রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) থেকে জেলা পর্যায়ে অবধি প্রত্যেক পর্যায়ের কর্মকর্তা নির্দেশিত প্রক্রিয়া পালন করবেন।
এসআইআর-এর শুনানির শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা নির্ভুল করার অগ্রগণ্য পর্ব হিসেবে। নির্বাচন কমিশন চাইছে—
👉 নথি যাচাইয়ে কোনো ভুল না হয়
👉 অযোগ্য কেউ ভোটার তালিকায় না থাকে
👉 সঠিক ভোটার তালিকা গঠনে ঝামেলা না হয়
এবার শুনানি, নথি যাচাই ও রিপোর্টিং প্রক্রিয়া — সবকিছুই কড়া নিয়মে ও দায়িত্বশীলভাবে সংঘটিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য ভোটার অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছ নির্বাচনী তালিকা গঠন নিশ্চিত করা।







