শুভেন্দু অধিকারীর সভা অনুমোদন নিয়ে শোরগোল! West Bengal সরকার আবারও ব্যর্থ?
কলকাতা, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনীতির উত্তাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারী-র আয়োজন করা গঙ্গাসাগর ও ঝাড়গ্রাম র্যালি পরিস্থিতি নিয়ে। আদালত সম্প্রতি এই সমাবেশ দুটি অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছে, তা যদিও রাজ্য সরকার পূর্বে না দিয়ে বিরোধীদের উপর একধরনের রাজনৈতিক বাধা সৃষ্টি করেছিল—যা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাজ্যের শাসকদল ও প্রশাসন প্রথমে অনুমতি দিতে সংকোচ করেছিল এবং বিভিন্ন অজুহাতে সভা-সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে — সুপ্রিম কোর্ডে রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে এই দুইটি সমাবেশ আইনত বৈধ এবং অনুমোদনযোগ্য।
আদালতের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক তীব্র প্রতিক্রিয়া
উচ্চ আদালতের Division Bench-এর সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে—
- “গঙ্গাসাগর ও ঝাড়গ্রামের সভা-সমাবেশের জন্য যে আবেদন করা হয়েছিল, তা আইন অনুযায়ী বৈধ এবং তা প্রত্যাখ্যান করার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।”
- “নিরাপত্তা ও সাধারণ শৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা নেওয়া উচিত ছিল, পরে নয়।”
এটি রাজ্যের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য বড় এক আঘাত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পর শুভেন্দু অধিকারীর পাশে সমর্থকরা বলছেন — “আদালতই প্রমাণ করল যে রাজ্য সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ সভাগুলোতে বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।”
West Bengal সরকারের পদক্ষেপ কি ছিল? কেন আদালত বাধা দিল?
রাজ্য প্রশাসন প্রথমে গঙ্গাসাগর এবং ঝাড়গ্রাম সমাবেশের জন্য আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুনমোদন না দিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা-ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রশ্ন তুলেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, মানুষের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তার সুনিশ্চিত প্রক্রিয়া প্রয়োজন—এটি অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে শুধু একটি অজুহাত হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সমালোচকরা বলেন—
✔️ “রাজ্যের প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই বাধা সৃষ্টি করেছিল।”
✔️ “আইনের ভীতিকেই সরকার সামনে এনে ভোটে প্রভাব ফেলতে চেয়েছিল।”
✔️ “জোর করে বিরোধীদের বাধা দেওয়া হয়েছে—এটি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন।”
এ ধরনের মন্তব্য সুপ্রিম কোর্ড ও আদালতের কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি, এবং আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে সভা-সমাবেশের জন্য যে আবেদন করা হয়েছিল তা যথাযথভাবে অনুমোদিত হবে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ন্যায়ের বিজয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন —
“আমরা কোনো ভুল কাজ করিনি। রাজ্যের পক্ষ থেকে যে বাধা দিয়েছিল তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালত স্বচ্ছভাবে আমাদের বৈধ অধিকার তুলে ধরেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন — “গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ার দোহাই দিয়ে যদি সাধারণ মানুষের অধিকারকে সীমাবদ্ধ করা হয়, তাহলে তা জনগণের বিশ্বাসের বিপর্যয়। আমাদের সভা-সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে ও দেশের আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।”
রাজ্য রাজনৈতিক মহলে এখন এই ইস্যুটি কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং মানুষ সরকারের প্রতি প্রশ্ন তুলছে— “একটি বৈধ আবেদনেও কি রাজ্য সরকার বিরোধীদের উপর রাজনৈতিক চাপ ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে?”
কলকাতা হাইকোর্টের Division Bench-এর এই সিদ্ধান্ত একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে — আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার সরকারর অজুহাতে সীমাবদ্ধ করা যাবে না।
শুভেন্দু অধিকারীর গঙ্গাসাগর ও ঝাড়গ্রাম সভা-সমাবেশ অনুমোদিত হওয়া রাজনৈতিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি এক বড় আঘাত। এটি রাজ্য সরকারের নৈতিকতা, ন্যায্যতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
এই ইস্যুটি ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে এক প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।






