নয়াদিল্লি / মুম্বাই / ওয়াশিংটন: ভারতের শীর্ষ আইটি পরিষেবা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী NASSCOM (জাতীয় অ্যাসোশিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানিজ) সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের H-1B ভিসা প্রোগ্রামে প্রস্তাবিত বড় পরিবর্তনগুলি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। NASSCOM সতর্ক করেছে যে এই পরিবর্তনগুলি শুধু ভারতীয় টেক সেক্টরের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, উদ্ভাবন এবং প্রতিযোগিতার ক্ষমতার জন্যও ক্ষতিকর ফলাফল আনতে পারে।
H-1B ভিসা প্রোগ্রাম: সংক্ষিপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড
H-1B হলো একটি কাজের ভিত্তিক অস্থায়ী কাজের ভিসা প্রোগ্রাম, যা মার্কিন প্রযুক্তি ও অন্যান্য সেক্টরগুলোতে উচ্চ দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রতি বছর সীমিত সংখ্যক H-1B ভিসা প্রদান করা হয় (প্রায় 65,000 সাধারণ কোটা + 20,000 উন্নত ডিগ্রি পায়নি আবেদনকারীদের জন্য)।
ভারতের প্রযুক্তি পেশাজীবীরা এমন ভিসাগুলোর একটি বড় অংশ দখল করে থাকে এবং বহু বড় আইটি-কোম্পানি এই ভিসার ওপর নির্ভর করে নিজেদের মার্কেট প্রসার ও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের পরিকল্পনা সাজায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত ভিসা পদ্ধতির মূল পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) এবং USCIS সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা পুরনো র্যান্ডম লটারি সিস্টেমকে হঠাৎভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে এবং এর পরিবর্তে ‘ওয়েইজ-ওজনড’ বা বেতন-ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু করবে। এর ফলে—
🔹 উচ্চ বেতন ও উচ্চ দক্ষতার প্রার্থীকে অধিক সুযোগ সমস্ত করা হবে
🔹 সেইসব কর্মীকে বেতন-ভিত্তিক বেশি এন্ট্রি দেওয়া হবে
🔹 কম বেতনের বা নবীনদের সুযোগ কমে যাবে
🔹 ছোট এবং মাঝারি কোম্পানি ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত নিয়োগকারীরা দুর্বল হবে
এই পরিবর্তন বর্তমান ৫০ বছর পুরনো ও নিরপেক্ষ লটারি সিস্টেম থেকে এক বৃহৎ বিচ্যুতি।
NASSCOM-এর উদ্বেগ: যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও উদ্ভাবন হ্রাস পেতে পারে
NASSCOM বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে—
✔ H-1B প্রোগ্রাম শুধু পর শ্রম দরকার পূরণ করে না — এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি অর্থনীতি ও উদ্ভাবন কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
✔ ভিসার নতুন নিয়ম স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষার উদ্দেশ্য থাকলেও entry-level বা নবীন প্রতিভাদের সুযোগ খর্ব হবে ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য USA-র প্রতিভা আকর্ষণ কমবে।
✔ একেবারে হঠাৎ এই পরিবর্তন compliance বা আইনগত জটিলতা বাড়াবে ও দীর্ঘমেয়াদে সেক্টরের পরিকল্পনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
✔ ছোট ও মাঝারি কোম্পানি, research institution ও বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক নিয়োগ তত্ত্বাবধান কঠিন হবে।
✔ সোমবার থেকে এই নিয়ম FY 2027 H-1B ক্যাপ-এর জন্য কার্যকর হবে; Nasscom দাবি করেছে একটি phased এবং lead-time-সহ বাস্তবায়ন দরকার যাতে নিয়োগকারীরা মানিয়ে নিতে পারে। The Indian Express+1
NASSCOM উল্লেখ করেছে যে ভারতীয় কোম্পানিগুলি আমেরিকায় ন্যূনতম 1.6 মিলিয়ন+ (16 লাখ) দক্ষ কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং প্রায় USD 198 বিলিয়ন মার্কিন GDP-তে অবদান রাখে — যা দেশীয় অর্থনীতির জন্য বড় ভূমিকা রাখে।
ইন্ডো-আমেরিকান সম্পর্ক ও প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টেকনোলজি এবং ট্যালেন্ট অংশীদারিত্ব দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়। বিশেষত ২০২4-এর ডেটা অনুযায়ী ভারতের নাগরিকরা H-1B ভিসা মানে প্রায় 71% পেয়ে থাকেন, যা প্রতিভা ও দক্ষতার চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। The Guardian
এই পরিবর্তন যদি খুব দ্রুত কার্যকর হয়, তাহলে—
🔹 যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবন-চালিত অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
🔹 আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, বিশেষ করে entry-level STEM ভূমিকার ক্ষেত্রে।
🔹 দীর্ঘমেয়াদে উচ্চশিক্ষা ও অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক কর্মীদের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।
এটি অনেক বিশ্লেষকের মতে ডিজিটাল অর্থনীতি এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার-এ আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে বিপন্ন করতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন—
📌 H-1B প্রোগ্রামের নতুন নিয়ম শুরুতে শুধুমাত্র চাকুরি-পেতে নয়, বরঞ্চ উদ্ভাবন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, উচ্চশিক্ষা ও অর্থনীতির উপযোগী ট্যালেন্ট সাপ্লাই-চেইন-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
📌 অনেক বড় প্রযুক্তি সংস্থা যেমন Microsoft, Google, Amazon ইত্যাদি ইতিমধ্যেই উচ্চ বেতন কাঠামোতে কর্মী নিয়োগ করে থাকে, ফলে তাদের জন্য ধরণটি তেমন চ্যালেঞ্জ মূলক নয়। কিন্তু ছোট ও মাঝারি IT ও স্টার্ট-আপগুলির জন্য নতুন পদ্ধতি যথেষ্ট জটিল ও ব্যয়বহুল হতে পারে।
📌 এছাড়াও H-1B-এর ছাত্রদের জায়গা entry-level পজিশনে হ্রাস পেলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে advanced education-এ আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে, যা গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য অপেক্ষাকৃত খারাপ ইঙ্গিত।
ভারতের শীর্ষ IT কোম্পানিগুলির মধ্যে যেমন TCS, Infosys, Wipro, HCLTech ইত্যাদি ইতিমধ্যেই H-1B ভিসা-র ওপর নির্ভরতাকে কিছুটা কমিয়ে স্ব-দেশীয় ও অনশোর প্রকল্পগুলিতে ব্যালান্স করার চেষ্টা করছে। Business Standard
তবুও নিয়মের দ্রুত বাস্তবায়ন ও বেতন-ভিত্তিক বাছাই বিভিন্ন কোম্পানির কর্মীদক্ষতা পরিকল্পনায় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
🔹 NASSCOM বলছে—যুক্তরাষ্ট্রের নতুন H-1B ভিসা পরিবর্তন শুধু ভারতীয় IT-এর জন্য নয়, বরঞ্চ US-এর উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা-ক্ষমতার জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
🔹 নিরপেক্ষ লটারি সিস্টেম বন্ধ করে বেতন-ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতিতে পরিবর্তন entry-level ও ছোট সংস্থার চলাচলকে কঠিন করবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিভা-ভিত্তিক ট্যালেন্ট সাপ্লাই-চেইনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
🔹 অভিজ্ঞ বিশ্লেষকরা মনে করেন একটি ধাপে বাস্তবায়িত ও পর্যাপ্ত lead-time থাকলে এই পরিবর্তন শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে — তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রতিযোগিতা দুর্বল হতে পারে।







